Home জাতীয় নির্বাচন ২০১৮ রংপুরে নির্বাচন: ইশতেহারে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি চান ছাত্র নেতারা

রংপুরে নির্বাচন: ইশতেহারে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি চান ছাত্র নেতারা

45
0
SHARE
Social Media Sharing

ফরহাদুজ্জামান ফারুক, জ্যৈষ্ঠ প্রতিবেদক
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া রাজনৈতিক জোট ও দলগুলোর কাছে নির্বাচনী ইশতেহারে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেয়ার প্রতিশ্রুতির বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত করার দাবি জানিয়েছে ছাত্র নেতারা। রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ছাত্র নেতাদের চাওয়া-পাওয়ার হিসেব মিলানোর গল্পে উঠে এসেছে ‘ছাত্র সংসদ নির্বাচন’ প্রসঙ্গটি।

রংপুরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বর্তমান ও সাবেক ছাত্রনেতারা মনে করছেন, আগামী দিনে ছাত্র রাজনীতিতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কল্যাণমূখী নেতৃত্ব সৃষ্টি করতে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের বিকল্প নেই। দীর্ঘ দিন ধরে ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ায় রাজনীতিতে দক্ষ সংগঠক ও নেতার অভাব বাড়ছে। তাই আগামীতে যে দল বা জোট সরকার গঠন করবে, তাদের উচিত হবে শিক্ষাঙ্গনের দিকে নজর রাখা। দ্রুত সময়ের মধ্যে ছাত্রদের প্রাণের দাবি ‘ছাত্র সংসদ নির্বাচন’ দেয়া।

ছাত্রলীগ (জাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও রংপুর জেলা সভাপতি ওসমান গণি শুভ্র দৈনিক দাবালকে বলেন, ‘সুষ্ঠু, গণতান্ত্রিক পরিচ্ছন্ন রাজনীতি চর্চার জন্য ছাত্র সংসদ নির্বাচনের বিকল্প নেই। ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যোগ্য নেতৃত্ব বের হবে। যা দেশের অতীত ইতিহাসের দিকে তাকালে বোঝা যায়’।

তরুণ এই ছাত্র নেতা বলেন, ‘দীর্ঘ ২৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ায় রাজনীতিতে যোগ্য নেতৃত্বের বিকাশ হচ্ছে না। এতে করে লেজুড় ভিত্তিক ছাত্র রাজনীতিতে ক্যাম্পাসগুলো প্রায় সময় অশান্ত থাকছে’। তিনি এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে রাজনৈতিক দলগুলোতে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বা ইশতেহারে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দাবি জানান।

চৌধুরি মেহেদী হাসান শিশির। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালীন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। নয় বছরেরও বেশি সময় ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দেয়া সাবেক এই ছাত্র নেতা দৈনিক দাবালকে বলেন, ‘রংপুরবাসীর দীর্ঘ আন্দোলনের ফসল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের অধিকার আদায়ে আমরা চেষ্টা করেছি। কিন্তু ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মতো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা না থাকায় যোগ্য নেতৃত্বের বিকাশ কিছুটা বাধাগ্রস্থ হয়েছে। আগামী দিনে ক্ষমতায় আসা সরকারের উচিত হবে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জন্য যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করা’।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট্রের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাদেক হোসেন ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি উৎপল মহন্ত দৈনিক দাবালকে জানান, ‘ছাত্র সংসদ নির্বাচনসহ ছাত্রদের অধিকার আদায়ে আমরা সব সময়ই যেমন শিক্ষাঙ্গনে সবর ছিলাম, তেমনি রাজপথেও ছিলাম। কিন্তু কোন সরকারই ছাত্রদের কথা ভাবেনি। যোগ্য নেতৃত্ব সৃষ্টির জন্য ছাত্র সংসদ নির্বাচনের গুরুত্ব বুঝতে চায়নি। আজ ছাত্র রাজনীতির প্রতি মানুষের ঘৃণা তৈরি হয়েছে। এর কারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে গণতান্ত্রিক ছাত্র রাজনীতির চর্চা নেই। ছাত্র সংসদ নেই’।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রংপুর মহানগরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নুর হাসান সুমন দৈনিক দাবালকে বলেন, ‘ছাত্রদের অধিকার আদায়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের বিকল্প নেই। দেশে আজ ৭০ থেকে ৯০ দশকের মতো ছাত্র নেতাদের অভাব তৈরি হয়েছে। এক সময় ছাত্র সংসদের নেতৃত্বে থাকা ছাত্র নেতারা দেশের গণতন্ত্র, ছাত্র-জনতার অধিকার আদায়ের সংগ্রাম আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এখন সেই রকম নেতা তৈরি হচ্ছে না। এজন্যই ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রয়োজন’।

জাতীয় ছাত্রসমাজের রংপুর মহানগরের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আল-আমিন সুমন দৈনিক দাবালকে বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি হয়। দুই যুগেরও বেশি সময় শিক্ষাঙ্গণ থেকে যোগ্য ছাত্র নেতা তৈরি হয়নি। একারণ ছাত্রদের মধ্যে গণতান্ত্রিক ও প্রতিযোগিতামূলক ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা নেই’। তরুণ এই ছাত্র নেতার দাবি, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে যে দল বা জোট সরকার গঠন করবে, তাদের উচিত হবে দ্রুত ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেয়া।

মাসুদ নবী মুন্না। তাকে রংপুরের ছাত্র নেতারা মুন্না নামেই বেশি চিনেন। রংপুর সরকারি কলেজ (রসক) ছাত্র সংসদের ভিপি ছিলেন তিনি। বর্তমানে রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক। রংপুর সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন সাবেক এই ছাত্র নেতা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে তার প্রত্যাশা অনেক বেশি। মুন্না দৈনিক দাবালকে বলেন, ‘শেখার জায়গা শিক্ষাঙ্গন। এখান থেকেই গণতন্ত্র, অধিকার, ন্যায্য দাবিসহ সব ধরণের ন্যায় সঙ্গত সকল বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়া সম্ভব। কিন্তু ১৯৯০ সালের পর থেকে ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ায় বর্তমানে ছাত্র রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক চর্চা নেই। ছাত্র রাজনীতিকে বাঁচাতে হলে ছাত্র সংসদের বিকল্প নেই। দেশের আগামীদিনের নেতৃত্বে বলিষ্ট ভূমিকা রাখার মতো ছাত্র নেতা করতে হলে ছাত্র সংসদকে সচল রাখা জরুরী’।

কারমাইকেল কলেজ (কাকসু) ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস ও বর্তমান রংপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু দৈনিক দাবালকে বলেন, ‘বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অসহায়। তাদের অধিকার আদায়ে তেমন জোরালো ভূমিকা রাখার মতে নেতা নেই। অথচ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ছাত্র সংসদ ফি নেয়া হচ্ছে। দীর্ঘ ২৭ বছরে সারাদেশের ছাত্র সংসদ কয়েকশদ কোটি জমা পড়েছি। কিন্তু শিক্ষার্থীদের কল্যাণে তা ব্যবহার হচ্ছে না।’ তিনি বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন, উন্নয়ন, অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং যোগ্য নেতৃত্ব তৈরির জন্য ছাত্র সংসদ নির্বাচনের বিকল্প নেই। তাই প্রত্যেকটি দলেরই উচিত ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ব্যাপারে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে নিজেদের অভিমত তুলে ধরা’।

কাকসুর আরেক সাবেক ভিপি আলাউদ্দিন মিয়া দৈনিক দাবালকে বলেন, ‘শুধু নির্বাচনী ই্শতেহার বা প্রতিশ্রুতিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেয়া হবে, এমন কথা বলার চেয়ে আগামীতে তা শতভাগ বাস্তবায়ন হলে এই ঘোষণা এখন খুবই জরুরী’। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশের শিক্ষাঙ্গণগুলোতে গণতন্ত্রের চর্চা ও বিকাশ নেই। ভালো নেতা তৈরি না হওয়াতে আমাদের প্রজন্ম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সংঘাত বিশৃঙ্খলা বেড়ে চলেছে। অথচ ছাত্র সংসদ নির্বাচন হলে জবাবদিহিতামূলক রাজনীতি এবং পরিচ্ছন্ন নেতৃত্ব সৃষ্টি হবে। একই সাথে দেশের জন্য রাজনীতিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়বে’।

এদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও মনে করেন, নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশ গ্রহণ যেমন স্বদিচ্ছার ওপর নির্ভর করে। তেমনি তারা সবাই চাইলে ইশতেহারে ছাত্র সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গটি রাখা সম্ভব। এতে করে আগামীদিনে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হলে ছাত্র-ছাত্রীদের অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ যোগ্য নেতৃত্ব তৈরিও সম্ভব হবে।


Social Media Sharing

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here