Home উত্তরাঞ্চল লালমনিরহাট ভাল নেই লালমনিরহাটে আলুচাষীরা

ভাল নেই লালমনিরহাটে আলুচাষীরা

156
0
SHARE
Social Media Sharing

আসাদুল ইসলাম সবুজ, লালমনিরহাট অফিস
মৌসুমের শুরু থেকেই বৈরী আবহাওয়া কারণে এবার ভাল নেই লালমনিরহাটে আলুচাষীরা। জেলার ৫টি উপজেলায় বিস্তীর্ণ আলু ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়েছে লেট ব্লাইট (পাতাপচা) রোগ। ক্ষেতে গাছ বেড়ে ওঠা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে লেট ব্লাইটের আক্রমণ। ফলে ক্রমেই সবুজ ক্ষেত লাল রং আকার ধারণ করছে। ফলে শঙ্কার মধ্যে পড়েছে জেলার আলু চাষীরা।
জানা গেছে, লালমনিরহাট সদর, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা, আদিতমারী ও পাটগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিস্তীর্ণ আলু ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়েছে লেট ব্লাইট (পাতাপচা) রোগ। কোন ধরণের ঔষধ দিয়ে স্প্রে করে কাজ হচ্ছে না।
চলতি মৌসুমে জেলার ৫টি উপজেলায় ১হাজার ৫শত হেক্টর জমিতে আলু চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু ভরা মৌসুমে আলুর দরপতন ও বৈরী আবহাওয়া কারণে আলু চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা পুরণ না হওয়ার আশংকা রয়েছে। ইতিমধ্যে আগাম জাতের আলুচাষীরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। গত বছর এ সময়ে যেখানে প্রতি মণ আলু বিক্রি হয়েছে ৯শত থেকে ১হাজার টাকায়। এখন সেই আলু বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬শত টাকা মণ দরে। এতে বিঘাপ্রতি চাষীদের লোকসান হচ্ছে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা। এখন যতই দিন যাচ্ছে ততই দাম কমছে আলুর। এবার আগাম আলুর চাষ করে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় লোকসানে মুখ দেখতে হচ্ছে আলুচাষীদের। এখন নমলজাতের বিস্তীর্ণ আলু ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়েছে লেট ব্লাইট (পাতাপচা) রোগ।
সদর উপজেলার চিনিপাড়া গ্রামের আলুচাষী আব্দুল মজিদ বলেন, তিনি সাড়ে তিন বিঘা জমিতে ডায়মন্ড ও এস্টোরিকস জাতের আলু চাষ করেছেন। সব মিলে এ পর্যন্ত ৬০-৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। গাছও বেড়েছে চমৎকার। তবে হঠাৎ তার আলুক্ষেতে পাতা পচা শুরু হয়েছে ১/২দিনের ব্যবধানে ছড়িয়ে পড়ছে এই পচন রোগ গোটা আলুর ক্ষেতে। তবে মাঠ পর্যায়ে কৃষি অফিসের কোন পরামর্শ পাচ্ছেন না। স্থানীয় বাজারের দোকানদারের পরামর্শে জমিতে ওষুধ প্রয়োগ করেও কোনই সুফল পাচ্ছেন না।
একই এলাকার আলুচাষী হাশেম আলী বলেন, তাদের আলুর গাছের পাতা পচন ক্রমেই বেড়ে চলেছে। কীটনাশক কোম্পানির এজেন্টদের পরামর্শে তারা বিভিন্ন ওষুধ প্রয়োগ করেছে। কিন্তু কোন ভাল ফল মিলছে না। মাঠে নেই কৃষি অফিসের লোকজনের তদারকি। অনেক আলুচাষীর আলুর ক্ষেত পুরো নষ্ট হয়ে গেছে।
লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিধু ভূষণ রায় জানান, আলু চাষাবাদের শুরুতে অতিমাত্রায় ইউরিয়া ব্যবহার ও ঘনকুয়াশাসহ আবহাওয়াগত কারণে সাধারণত আলু ক্ষেতে লেট ব্লাইট রোগের আক্রমণ হয়ে থাকে। তবে এ বিষয়ে প্রতিনিয়ত কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। লেট ব্লাইট আক্রান্ত জমিতে প্রথম পর্যায়ে মেটালক্সিন পরবর্তীতে মানকোজেব এবং শেষে আবার মেটালক্সিন ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন এ কৃষি কর্মকর্তা। এছাড়া বেশি পচন দেখা দিলে প্রতিলিটার পানিতে ৬ গ্রাম পটাশ এবং ৬ গ্রাম থিয়োভিট মিশিয়ে আলুর গাছে স্প্রে করতে হবে। এতে গাছে শক্তি ফিরে আসবে বলে জানা তিনি।


Social Media Sharing

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here