Home জাতীয় জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় চাই ইসির নিরপেক্ষ ভূমিকা : সুজন

জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় চাই ইসির নিরপেক্ষ ভূমিকা : সুজন

32
0
SHARE
Social Media Sharing

ঢাকা অফিস

জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোকেও দল ও দেশ পরিচালনায় তাদের ভূমিকা কী হবে তা তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করতে হবে।

আজ ৬ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘নির্বাচনী ইশতেহার: নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলন ও আলোচনা অনুষ্ঠানে এমন অভিমত উঠে আসে। সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে কী কী বিষয় থাকা উচিত সে বিষয়ে সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে সুজনের লিখিত সুপারিশ উত্থাপন করেন সংগঠনটির সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতায় বিশ্বাসী হয়ে রাজনীতি করতে হবে। রাষ্ট্রীয় আদর্শের সঙ্গে দলগুলোর আদর্শের সঙ্গতি থাকতে হবে। সরকার ও দেশ পরিচালনায় জনগণের মালিকানা নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর ইতিহাস ও দল পরিচালনায় তাদের কার কী ভূমিকা তা তুলে ধরতে হবে। গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে, জনগণের অধিকার আদায়ে  রাজনৈতিক দলগুওেলার অর্জন তুলে ধরতে হবে। ক্ষমতায় থাকাকালে নির্বাচনী ইশতেহার কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে তা উল্লেখ করতে হবে। আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরতে হবে।

লিখিত সুপারিশে আরও বলা হয়, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যাতে সত্যিকার অর্থে জনগণের সম্মতির শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সংস্কারের রূপরেখা দিতে হবে, নির্বাচনে প্রার্থীর যোগ্যতা-অযোগ্যতা, হলফনামার সংস্কার,  হলফনামা যাচাই-বাছাই, নির্বাচনী ব্যয়ে স্বচ্ছতা, না ভোটের বিধান করতে হবে। শাসন ব্যবস্থার একচ্ছত্র প্রাধান্যের অবসান করতে হবে। সাংবিধানিক সংস্কার, মেয়াদের সীমা নির্ধারণ, দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট সংসদ, গণভোট রিকল ব্যবস্থা, আদিবাসিদের সাংবাধিনিক স্বীকৃতি ও ধর্মনিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।

কলামিস্ট ও সুজনের নির্বাহী সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘সরকারের অসন্তুষ্টি নিয়ে নির্বাচন কমিশন কাজ করতে পারবে না। যেভাবে তারা কাজ করতে চায় তারা পারছে না। সরকারি দলের লোকজন যেভাবে নির্বাচন কমিশনের প্রশংসা করছেন, তাতে মনে হচ্ছে, সরকারি দলের লোকজন নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগে নেমেছেন। এ অবস্থায় জনগণের আস্থা ফেরাতে হলে তাদেরই প্রমাণ করতে হবে তারা দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম, স্বচ্ছ নির্বাচন করতে পারবে। নির্বাচন কমিশনকে তাদের স্বচ্ছতা ও দায়িত্ব দৃশ্যমান করতে হবে।’

রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহার বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যে দলই ক্ষমতায় যায় সেই দলই রাজনৈতিক ইশতেহার বাস্তবায়নের কথা ভুলে যায়। তাই এবার তাদের আগের নির্বাচনী ইশতেহারে কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে আর কতটা হয়নি তা তুলে ধরতে হবে।’

সুজন সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, ‘যেসব আইন-কানুন রয়েছে তা যদি বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে আশা করা যায় সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব হবে।’

নির্বাচনী ইশতেহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত তারা যে ইশতেহার ঘোষণা করবে, তারা ক্ষমতায় যাওয়ার পর তা বাস্তবায়ন করা। ক্ষমতায় যাওয়ার পর তারা তাদের অঙ্গীকার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাস্তবায়ন করে না। নির্বাচনী ইশতেহারেও তাদের এ বিষয়ে স্পষ্ট করতে হবে।’

সুজনের নির্বাহী সদস্য ও আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় যাবে তারা যেন তাদের অঙ্গীকার ভুলে না যায়। স্বাধীন দেশে নির্বাচনের সময় আমি আমার মতামত প্রকাশ করতে পারবো না, করলে নির্বাচন কমিশন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ব্যবস্থা নেবে— এটা থাকলে জনগণ কীভাবে তাদের গণতান্ত্রিক স্বাধীন মতামত ব্যক্ত করবে।’

নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে সুজনের লিখিত সুপারিশে আরও বলা হয়, তথ্য অধিকার আইনের ব্যাপক প্রয়োগ, শাসন প্রক্রিয়ায় নাগরিকের কার্যকর অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার থাকতে হবে, স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা সংসদ সদস্যের প্রভাবমুক্ত রেখে সত্যিকারের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে, আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নজরদারি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে, আর্থিক খাতের দুর্নীতি ও অর্থ পাচার রোধ ও পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার অঙ্গীকার থাকতে হবে, শিল্পে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, একমুখী শিক্ষা ও শিক্ষার মনোন্নয়ন করার অঙ্গীকার থাকতে হবে, নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ বৈষম্য ও সহিংসতার অবসান ঘটানোর অঙ্গীকার থাকতে হবে।

এছাড়া গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধ, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও অন্যান্য নিবর্তনমুলক আইনের সংস্কার, যুদ্ধপারেধের বিচার কাজ শেষ করা, জঙ্গিবাদ বন্ধের অঙ্গীকার রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে রাখার সুপারিশ করেছে সুজন।


Social Media Sharing

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here