Home রংপুর গঙ্গাচড়া গঙ্গাচড়ায় প্রচন্ড ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত

গঙ্গাচড়ায় প্রচন্ড ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত

98
0
SHARE
Social Media Sharing

নিজস্ব সংবাদদাতা, গঙ্গাচড়া (রংপুর)
টানা গত কয়েকদিন ধরে শীত আর প্রচন্ড ঠান্ডা অব্যাহত থাকায় রংপুরের গঙ্গাচড়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শীতের পর্যাপ্ত গরম কাপড় না থাকায় নিম্নআয়ের মানুষজন, শিশু ও বয়স্করা প্রচন্ড ঠান্ডায় কাঁপছে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে চাইতেছেনা, ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কমেছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি। অভিভাবকরা ঠান্ডার কারণে সন্তানদের ঘরের বাহিরে যেতে দিচ্ছেনা। শিশু ও বয়স্কদের ঠান্ডা জনিত বিভিন্ন রোগ দেখা দিয়েছে। ঠান্ডা ও রোগ এ-দুয়ে তারা জীবন মরন সন্নিকট অবস্থা। জরুরী কাজ ছাড়া কেউ বাড়ির বাহিরে যাচ্ছেনা। দিনমজুর, রিক্সা ও ভ্যান চালকসহ অন্যান্য পেশার নিম্নআয়ের মানুষজন পড়েছে চরম বেকায়দায়। শীতের গরম কাপড় প্রয়োজনের তুলনায় কম থাকায় তাদের পেশা থমকে গেছে। জীবিকার তাগিদে দুপুর নাগাদ বাহিরে গেলেও দু-তিন কেজি চালের আয় হলেই ঘরে ফেরছে। চাষাবাদকৃত বিভিন্ন ফসলে দেখা দিয়েছে রোগ। গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছে মানুষজন। নিজেরা ঠান্ডায় কাহিল তার ওপর গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগী। তাদের আয়ের বাড়তি এসব প্রাণীর ঠান্ডা বিভিন্ন উপায়ে নিবারণের চেষ্টা করছে। আবহাওয়া অফিস সুত্রে জানা গেছে আগামী আরো দু-একদিন এ ধারা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে অসহায় দুঃস্থ মানুষের জন্য শীতবস্ত্র এখন পর্যন্ত এ উপজেলায় পর্যাপ্ত দেওয়া হয়নি। সরকারিভাবে কিছু কম্বল দেওয়া হলেও বেসরকারিভাবে বা ব্যাক্তি বিশেষ সেভাবে এগিয়ে আসেনি। অসহায় পরিবারগুলোর কেউ খরকুটো দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে তাপাচ্ছে, অনেকে বিছানায় খর বিছিয়ে তাতে শুয়ে আবার অনেকে বিছানার নিচে পাতিলে কাঠের আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে ঠান্ডা থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করছে। দঃ কোলকোন্দ পশ্চিম পাড়া অসুস্থ্য বয়স্ক আব্দুল গফুর, হাছেন বানু, তৈয়ব আলী, প্রতিবন্ধী আলেমা, গঙ্গাচড়া মেডিকেল উত্তরপাড়া পাতানী, খরকি, গিরিয়ারপাড় এলাকার আব্দুল হামিদ, আতিয়ার রহমান, ছফিয়ন নেছা, অমিচা, ভূটকা এলাকার সাজেদা বেগম, রাবেয়া বেগম, আবুদান বেগম জানান, শীতে এত ঠান্ডায় তারা কোন কম্বল পাননি। এমনকি আমাদের পাড়ায় কোন কম্বল এখন পর্যন্ত কাউকে দেয়া হয়নি। ধামুর এলাকার মিঠু মিয়া বলেন, ঠান্ডায় শরীর থর থর করি কাঁপছে। সমাজ সেবক আলীম, নুর ইসলাম, বাবুল মিয়া বলেন, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলের লোকজন কয়েকজনের মাঝে নামমাত্র শীতবস্ত্র দিয়ে বড় বড় কথা বলেন। তাদের উচিত এলাকা ভিত্তিক দরিদ্রদের তালিকা করে চাহিদা মোতাবেক শীতবস্ত্র দেওয়া।
উপজেলা ত্রাণ অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৬ হাজারের মত শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। দরিদ্র মানুষগুলো প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম শীতবস্ত্র বিতরণ করায় তারা দ্রুত আরো শীতবস্ত্রের দাবি করেছেন।


Social Media Sharing

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here