Home উত্তরাঞ্চল কুড়িগ্রাম কুড়িগ্রামে হানাদারমুক্ত দিবস পালিত

কুড়িগ্রামে হানাদারমুক্ত দিবস পালিত

24
0
SHARE
Social Media Sharing

আবুল হোসেন বাবুল, কুড়িগ্রাম অফিস

আজ ৬ ডিসেম্বর কুড়িগ্রাম পাকিস্তানি হানাদার মুক্ত দিবস। দিবসটি উপলক্ষ্যে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড যৌথভাবে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেছে।

সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর থেকে একটি বর্নাঢ্য র‌্যালী বের হয়ে শহর প্রদক্ষিন করে। পরে স্বাধীনতার বিজয় স্তম্ভে পুস্পমাল্য অর্পন করা হয়। এসময় শহীদদের স্মরনে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোছাঃ সুলতানা পারভীন, জেলা আওয়ামীলগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল ইসলাম মঞ্জু মন্ডল, মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম টুকু, সম্মিলিতি সাংস্কৃতিক জোটের আহবায়ক শ্যামল ভৌমিক প্রমুখ।

১৯৭১’র এই দিনে মুক্তিযোদ্ধারা পাক সেনা রাজাকার আলবদরদের হটিয়ে কুড়িগ্রামকে মুক্ত করে। স্বাধীনতা যুদ্ধের চুড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হলেও এ অঞ্চলে সেদিন উদিত হয় স্বাধীন বাংলার পতাকা। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরে সেই বিজয়ের স্মৃতি চারন করতে যেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন সেদিনের বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ৬ ও ১১ নম্বর সেক্টরের অধীনে ছিল গোটা কুড়িগ্রাম অঞ্চল। শুধুমাত্র ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন রৌমারী ছিল মুক্তাঞ্চল। এখানেই ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষন ক্যাম্প। ৬ নং সেক্টরের কোম্পানি কমান্ডার আব্দুল হাই এর নেতৃত্বে একে একে পতন হতে থাকে পাক সেনাদের শক্ত ঘাঁটিগুলো। মুক্ত হয় ভুরুঙ্গামারী, নাগেশ্বরী, চিলমারী, উলিপুরসহ বিভিন্ন এলাকা।

এরপর পাক সেনারা শক্ত ঘাঁটি গড়ে তোলে কুড়িগ্রাম শহরে। হাই বাহিনী কুড়িগ্রাম শহরকে মুক্ত করতে ৫ডিসেম্বর পাক সেনাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমনের পাশাপাশি মিত্র বাহিনীর বিমান হামলায় বেসামাল হয়ে পালিয়ে যায় পাক সেনারা। মুক্ত হয় কুড়িগ্রাম। মুক্তিযোদ্ধাদের স্বাগত জানাতে হাজারো মুক্তিকামী মানুষ সেদিন মিলিত হয় বিজয় মিছিলে। জোড়ালো আক্রমনে পাক হানাদার বাহিনীকে পিছু হটাতে পারার আনন্দ ও মুক্তিকামী মানুষের বিজয় উল্ল্যাসের সে দিনটির কথা মনে পড়লে আবেগ তাড়িত হয়ে পড়েন মুক্তিযোদ্ধারা।


Social Media Sharing

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here